ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে যদি একটা ওয়েবসাইটই তৈরি করা যায়, তাহলে কোডিং শেখার কি দরকার? — BanglaTrick
Wordpress

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে যদি একটা ওয়েবসাইটই তৈরি করা যায়, তাহলে কোডিং শেখার কি দরকার?

6 months ago 0 145 0
BanglaTrick.com

BanglaTrick.com

July 28, 2025 July 30, 2025 (updated) 1 min read
0 145 0

ওয়ার্ডপ্রেস হলো একটি CMS (Content Management System)। সহজভাবে বলতে গেলে ওয়েবসাইটের কনটেন্ট ম্যানেজম্যান্ট সিষ্টেম। কনটেন্ট হলো ওয়েবসাইটের উপাদান। ছবি, লেখা ও যাবতীয় তথ্য আপনি যা একটি ওয়েবসাইটে দেখে থাকেন তাই হলো কনটেন্ট। এইগুলি ম্যানেজ করাই হলো Content Management. আর ওয়ার্ডপ্রেস হলো এমন একটি কনটেন্ট ম্যানেজম্যান্ট সিষ্টেম। শুধু তাই নয়, ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে বিশ্বের এক নাম্বার CMS. ওয়েবসাইট বানানোর জন্য এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।

 

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে আপনি কোনো কোডিং জ্ঞান ছাড়াই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস এমন একটি কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS) যা ব্যবহারকারীদের খুব সহজেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে সাহায্য করে, বিশেষ করে যদি আপনি থিম এবং প্লাগিন ব্যবহার করেন। তবে, কোডিং শেখার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে যা আপনার ওয়েবসাইটের দক্ষতা, কাস্টমাইজেশন এবং ভবিষ্যত কর্মক্ষমতা উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।

 

বিষয়টি অনেকটা রান্না-খাওয়ার মতো। হোটেল-রেস্তোরাঁয় তৈরি কেনা খাবার আপাতদৃষ্টিতে চটপটে। স্বাদে লোভনীয়। কিন্তু কী কী মশলা কতটা ব্যবহার ক’রে কী পদ্ধতিতে রান্নাটি হবে সে বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণ প্রায় থাকেই না। বিক্রেতার রুচি সেখানে প্রধান। অপরপক্ষে, আপনি য’দি নিজে রান্না করতে শেখেন, খাবার পদটির উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশী থাকে। আপনার পরিশ্রম বেশী হবে, কিন্তু মন মতো খাবারটি বানিয়ে নিতে পারবেন।

 

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে আপনি অনেক ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন এটা ঠিক কিন্তু আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট প্লাগিন এবং টেমপ্লেটের মধ্যই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। আপনি চাইলেই যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন না। হয়তো আপনাকে ফ্রি টেমপ্লেট বেছে নিতে হবে নয়তো আপনাকে টেমপ্লেট কিনে নিতে হবে । আর যাদের কাছ থেকে আপনি টেমপ্লেট ক্রয় করছেন তারা প্রোগ্রামিং জানে বলেই টেম্পলেট তৈরি করতে পেরেছে।

 

এখানে কোডিং শেখার কিছু কারণ দেয়া হলো:

১. কাস্টমাইজেশন এবং ফিচার

  • ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে আপনি অনেক ফিচার পাবেন, তবে কখনো কখনো আপনার ওয়েবসাইটে বিশেষ কোনো কাস্টম ফিচার বা ডিজাইন চেঞ্জ দরকার হতে পারে, যা থিম বা প্লাগিন দিয়ে পাওয়া সম্ভব হয় না। উদাহরণস্বরূপ – আপনার যদি বিশেষ কোনো ফর্ম বা কাস্টম পেজ তৈরি করার প্রয়োজন হয়, তবে HTML, CSS, PHP, এবং JavaScript সম্পর্কে কিছু ধারণা থাকা আপনাকে তা কাস্টমাইজ করতে সাহায্য করবে।

২. থিম ও প্লাগিনের সীমাবদ্ধতা

  • থিম এবং প্লাগিন ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা থাকে, কারণ সবসময় আপনার কাঙ্ক্ষিত ডিজাইন বা ফিচার সরাসরি থিম বা প্লাগিনের মধ্যে থাকবে না। কোডিং শেখার মাধ্যমে আপনি আপনার নিজস্ব থিম বা প্লাগিন তৈরি করতে পারবেন, যা আপনার সাইটের জন্য সম্পূর্ণ কাস্টমাইজড এবং ইউনিক হবে।

৩. ওয়েবসাইটের পারফর্মেন্স ও গতি

  • ওয়েবসাইটের গতি এবং পারফর্মেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় প্লাগিন ব্যবহার করলে ওয়েবসাইটের গতি কমে যায়।
  • কোডিং জানলে আপনি অপটিমাইজেশন করতে পারবেন, যেমন: Minify CSS/JS, Lazy loading ইত্যাদি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওয়েবসাইটের গতি বাড়াতে পারবেন।

৪. SEO (Search Engine Optimization)

  • কোডিং শেখার মাধ্যমে আপনি SEO এর বিভিন্ন টেকনিক্যাল দিক বুঝতে পারবেন, যেমন: Meta tags, Schema markup, Image optimization, Site speed ইত্যাদি।
  • আপনি Custom URL structure, 404 error fixing, robots.txt এবং XML sitemaps নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, যা SEO এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৫. বাগ ফিক্সিং এবং ত্রুটি সমাধান

  • কখনো কখনো ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বাগ বা ত্রুটি দেখা দিতে পারে। কোডিং শেখা থাকলে আপনি এই ত্রুটিগুলি দ্রুত চিহ্নিত এবং সমাধান করতে পারবেন, যা সাধারণত থিম বা প্লাগিনের মধ্যে থাকে না।উদাহরণস্বরূপ – আপনার সাইটে PHP error বা JavaScript error হলে, কোডিং জানলে আপনি সেগুলি ঠিক করতে পারবেন।

৬. Advanced Features

  • আপনি যদি e-commerce ওয়েবসাইট বা মেম্বারশিপ সাইট তৈরি করতে চান, তবে কোডিং জানতে হবে।
  • WooCommerce, BuddyPress ইত্যাদি প্লাগিন ব্যবহার করলে আপনাকে কিছু কাস্টমাইজেশন করতে হতে পারে যাতে সেগুলি সঠিকভাবে কাজ করে।

৭. সামাজিক মিডিয়া ও কাস্টম ফাংশনালিটি

  • যদি আপনার সাইটে কোনো social media integration বা custom functionalities প্রয়োজন হয় (যেমন: বিশেষ ধরনের ফর্ম, ড্যাশবোর্ড ইত্যাদি), তবে কোডিং জ্ঞান আপনাকে সেগুলি তৈরি বা কাস্টমাইজ করতে সাহায্য করবে।
  • আপনি কোডিং শেখার মাধ্যমে API integration বা third-party services যুক্ত করতে পারবেন।

৮. লং-টার্ম ব্যবস্থাপনা

  • কোডিং শিখলে আপনি ওয়েবসাইটের লং-টার্ম ব্যবস্থাপনা করতে আরও ভালোভাবে সক্ষম হবেন। সঠিক কোডিং এর মাধ্যমে আপনি ওয়েবসাইটটি সময়ের সাথে আপডেট রাখতে পারবেন, নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে পারবেন এবং নতুন ফিচার যোগ করতে পারবেন।

৯. সার্ভার বা হোস্টিং ম্যানেজমেন্ট

  • ওয়েবসাইট তৈরি করতে আপনি যদি নিজস্ব সার্ভার বা হোস্টিং ম্যানেজ করেন, তবে কোডিং জানলে server-side issues বা database issues সমাধান করা অনেক সহজ হবে।

কোডিং শেখার প্রয়োজন নেই যদি আপনি শুধুমাত্র একটি সাধারণ ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান এবং থিম ও প্লাগিনের মাধ্যমে কাজ চালাতে চান। তবে, কোডিং শেখা আপনার কাস্টমাইজেশন, পারফর্মেন্স, SEO, এবং অ্যাডভান্স ফিচার অন্তর্ভুক্ত করতে সাহায্য করবে। তাই, আপনার যদি ভবিষ্যতে উন্নত ফিচার, কাস্টম ডিজাইন বা অপটিমাইজেশন দরকার হয়, তবে কোডিং শেখা খুবই কার্যকর হবে।

কোডিং শেখার জন্য কী শুরু করতে পারেন?

  • HTML এবং CSS: সাইটের স্ট্রাকচার এবং ডিজাইন কাস্টমাইজ করার জন্য।
  • PHP: ওয়েবসাইটের ব্যাকএন্ড কাস্টমাইজ করার জন্য, যেহেতু ওয়েবসাইটের মূল প্ল্যাটফর্ম PHP এ নির্মিত।
  • JavaScript: ইন্টারঅ্যাকটিভ এবং ডাইনামিক উপাদান তৈরি করার জন্য।
  • MySQL: ডেটাবেস ম্যানেজমেন্টের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *