
Wifi এফটিপি (Wi-Fi FTP): তারবিহীন ফাইল আদান-প্রদানের সহজ সমাধান
Wifi এফটিপি (Wi-Fi FTP) মূলত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ফাইল ট্রান্সফার প্রটোকল (FTP) এর মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদানের একটি পদ্ধতি। এর সাহায্যে ব্যবহারকারীরা কোনো ধরনের তার বা ইউএসবি ক্যাবলের সংযোগ ছাড়াই নিজেদের বিভিন্ন ডিভাইসের (যেমন: কম্পিউটার, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট) মধ্যে ফাইল স্থানান্তর করতে পারেন।
Wifi এফটিপি কী?
এফটিপি (FTP) বা ফাইল ট্রান্সফার প্রটোকল হলো ইন্টারনেট বা যেকোনো নেটওয়ার্কে ফাইল আদান-প্রদানের একটি স্ট্যান্ডার্ড পদ্ধতি। যখন এই এফটিপি সেবাটি একটি ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে প্রচলিত ভাষায় “wifi এফটিপি” বলা হয়।
এর মূল ধারণাটি হলো, একটি ডিভাইসকে (সাধারণত স্মার্টফোন বা কম্পিউটার) একটি এফটিপি সার্ভারে পরিণত করা হয়। এরপর একই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে থাকা অন্য যেকোনো ডিভাইস একটি এফটিপি ক্লায়েন্ট (যেমন: ফাইলজিলা, উইনএসসিপি বা ওয়েব ব্রাউজার) ব্যবহার করে সেই সার্ভারে যুক্ত হয়ে ফাইল ডাউনলোড বা আপলোড করতে পারে।
এটি কীভাবে কাজ করে?
Wifi এফটিপি সার্ভার সেট আপ করার প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ। বিশেষ করে স্মার্টফোনের জন্য গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে অনেক অ্যাপ রয়েছে যা দিয়ে সহজেই ফোনকে একটি এফটিপি সার্ভারে পরিণত করা যায়।
কার্যপ্রক্রিয়াটি সাধারণত নিম্নরূপ:
১. সার্ভার তৈরি: প্রথমে যে ডিভাইস থেকে ফাইল শেয়ার করা হবে, সেটিতে একটি এফটিপি সার্ভার অ্যাপ (যেমন: ‘WiFi FTP Server‘) ইনস্টল করে চালু করতে হবে।
২. সার্ভার ঠিকানা: অ্যাপটি চালু করলে একটি সার্ভার অ্যাড্রেস বা ইউআরএল (URL) দেখাবে, যা সাধারণত ftp:// দিয়ে শুরু হয় এবং এরপর একটি আইপি অ্যাড্রেস ও পোর্ট নম্বর থাকে (যেমন: ftp://192.168.0.101:2221)।
৩. ক্লায়েন্ট সংযোগ: এরপর ফাইল গ্রহণকারী ডিভাইসে (যেমন: কম্পিউটার) একটি এফটিপি ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার বা ওয়েব ব্রাউজার খুলে সেখানে সার্ভার ঠিকানাটি প্রবেশ করাতে হয়।
৪. ফাইল আদান-প্রদান: সঠিকভাবে সংযুক্ত হওয়ার পর ব্যবহারকারী তার কম্পিউটারের ফাইল এক্সপ্লোরারের মতোই ফোনের স্টোরেজ দেখতে পাবেন এবং সহজেই ফাইল কপি, পেস্ট, ডিলিট বা স্থানান্তর করতে পারবেন।
গুরুত্বপূর্ণ শর্ত: এই পদ্ধতিতে ফাইল আদান-প্রদানের জন্য উভয় ডিভাইসকে অবশ্যই একই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত থাকতে হবে।
Wifi এফটিপি-র সুবিধা
* তারবিহীন সুবিধা: ইউএসবি ক্যাবলের প্রয়োজন না হওয়ায় ফাইল স্থানান্তর অনেক সহজ ও ঝামেলামুক্ত হয়।
* দ্রুত গতি: লোকাল ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে ডেটা ট্রান্সফার হওয়ায় এর গতি সাধারণত ব্লুটুথের চেয়ে অনেক বেশি হয়। বড় আকারের ফাইল খুব দ্রুত আদান-প্রদান করা যায়।
* একাধিক ফাইল স্থানান্তর: একসাথে একাধিক ফাইল বা ফোল্ডার স্থানান্তর করা যায়।
* সহজলভ্যতা: এর জন্য ব্যবহৃত বেশিরভাগ অ্যাপ বিনামূল্যে পাওয়া যায় এবং ব্যবহার করাও খুব সহজ।

* ক্রস-প্ল্যাটফর্ম সামঞ্জস্যতা: অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, উইন্ডোজ, ম্যাক বা লিনাক্স—যেকোনো অপারেটিং সিস্টেমের ডিভাইসের মধ্যে ফাইল শেয়ার করা সম্ভব।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়
কিছু এফটিপি অ্যাপে পাসওয়ার্ড সেট করার সুবিধা থাকে, যা নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে। তবে সাধারণ এফটিপি সংযোগ এনক্রিপ্টেড থাকে না, অর্থাৎ ডেটা প্লেইন টেক্সট হিসেবে পাঠানো হয়। অধিক নিরাপত্তার জন্য এফটিপিএস (FTPS – FTP over SSL/TLS) সমর্থিত অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ডেটা এনক্রিপ্ট করে প্রেরণ করে।
সামগ্রিকভাবে, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বা বাড়ির নেটওয়ার্কে দ্রুত ও সহজে ফাইল আদান-প্রদানের জন্য উই ফি এফটিপি একটি অত্যন্ত কার্যকর এবং জনপ্রিয় পদ্ধতি।