Site icon BanglaTrick

ক্যামেরা লাগবে না, Wi-Fi দিয়েই চলবে আপনার গোপন ট্র্যাকিং! 😭

ক্যামেরা লাগবে না, Wi-Fi দিয়েই চলবে আপনার গোপন ট্র্যাকিং! 😭 — BanglaTrick

চিন্তা করুন, আপনি নিজের ঘরে একা বসে আছেন। আশেপাশে কোনো ক্যামেরা নেই, ফোনটাও হয়তো বন্ধ বা অন্য ঘরে রাখা। আপনি ভাবছেন, আপনি একদম নজরের বাইরে – নিরাপদ এবং অদৃশ্য। কিন্তু সত্যি কি তাই? ঘরের কোণে থাকা নীরব Wi-Fi রাউটারটি হয়তো সেই মুহূর্তেই তার অদৃশ্য তরঙ্গ দিয়ে চুপিসারে আপনার চলাফেরা “দেখে” ফেলছে। বিজ্ঞান-কল্পকাহিনীর মতো শোনাচ্ছে? আসলে এটা এখন বিজ্ঞান-বাস্তবতা। ইতালির La Sapienza বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক তৈরি করেছেন একটি সিস্টেম – নাম WhoFi – যা সাধারণ ঘরের ২.৪ গিগাহার্টজ Wi-Fi রাউটারের সংকেতকে কাজে লাগিয়ে দেয়াল-পেরিয়ে অন্ধকার ঘরেও মানুষের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে। কোন ফোন বা ক্যামেরা লাগবে না, শুধু আপনার শরীরের ভেতর দিয়ে যাওয়া অদৃশ্য রেডিও তরঙ্গের সামান্য পরিবর্তন থেকেই আপনার একটি ইউনিক বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট বানিয়ে ফেলে এই সিস্টেম! কৌতূহল হচ্ছে, কীভাবে এটা সম্ভব? চলুন, সেই গল্পেই ডুবে দেখা যাক।

 

WhoFi কীভাবে কাজ করে?

প্রত্যেক মানুষের শরীর ও চলাফেরার ধরণ আলাদা, এবং Wi-Fi সিগন্যালে তারা যে বিকৃতি (distortion) সৃষ্টি করে সেটাও অনেকটা আঙুলের ছাপের মতোই একেবারে ব্যক্তিগত। Channel State Information (CSI) নামে Wi-Fi সিগন্যালের এমন কিছু ডেটা রয়েছে যা কোনো ব্যক্তির কারণে সিগনালে কী পরিবর্তন হচ্ছে তা খুব বিস্তারিতভাবে ধরে রাখে। WhoFi প্রথমে রাউটার থেকে সেই CSI ডেটা সংগ্রহ করে – অর্থাৎ আপনার শরীরের উপস্থিতিতে Wi-Fi তরঙ্গের অ্যামপ্লিটিউড ও ফেজ (মাত্রা ও পর্যায়) কতটা হেরফের হলো তার মাপ নেয়। এরপর একটি শক্তিশালী Transformer-ভিত্তিক ডিপ নিউরাল নেটওয়ার্কে এই ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়। এই AI মডেলটি Wi-Fi তরঙ্গের বিকৃতির প্যাটার্ন থেকে শিখে নেয় আপনার শরীরের জন্য বিশেষ সেই ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ বা স্বাক্ষরটি কী রকম। ফলাফল: আপনার সামনে কোন ক্যামেরা নেই, ডিভাইস নেই, তবু বাতাসে ভেসে বেড়ানো Wi-Fi সংকেত থেকেই আপনার একটি ডিজিটাল ছাপ তৈরি হলো – যা দিয়ে ভিড়ের মধ্যেও আপনাকে আলাদা করে শনাক্ত করা সম্ভব।

নজিরবিহীন নির্ভুলতা ও ক্ষমতা

গবেষণাগারে এই প্রযুক্তির ফলাফল রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। পরীক্ষায় WhoFi প্রায় ৯৫.৫% নির্ভুলতা নিয়ে মানুষের পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছে। অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্যি – কেউ পোশাক পাল্টালেও, এমনকি ব্যাকপ্যাক বা অন্য কিছু সঙ্গে নিলেও Wi-Fi তরঙ্গে তার যে সিগনেচার, তা বড় একটা বদলায় না। প্রতিটি মানুষের শরীরের গঠন, হাঁটা-চলা, এমনকি শরীরের অভ্যন্তরীণ কাঠামোও (যেমন হাড়ের বিন্যাস) Wi-Fi সিগনালে সূক্ষ্ম ছাপ ফেলে, যা অন্য কারো থেকে ভিন্ন। WhoFi এই সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো ধরতে পারদর্শী।

আর সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মতো বিষয় হলো, এই সিস্টেমটি আলো-অন্ধকার কিছু মানে না, দেয়ালকেও তোয়াক্কা করে না। ঘর অন্ধকার? কোনো সমস্যা নেই – ক্যামেরার মতো আলোর দরকার এতে নেই। আপনি অন্য ঘরে, মাঝখানে দেয়াল? তাও আটকাতে পারবে না – Wi-Fi তরঙ্গ দেয়াল ভেদ করে গিয়েই আপনার উপস্থিতি বুঝে নেবে। আশেপাশে আপনার ফোন বা কোনো ট্র্যাকিং ডিভাইস নেই? তাহলেও চলবে। এক কথায়, আপনি হয়তো কিছুই টের পাচ্ছেন না, কিন্তু আপনার বাড়ির সাধারণ রাউটারটিকেই একটি লুকানো সেন্সরে পরিণত করা সম্ভব যে আপনার “ছায়া” অনুসরণ করে বেরাচ্ছে।

গোপনীয়তা নিয়ে সতর্কতা

এতক্ষণে আপনার মনে হতেই পারে, আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা তবে কোথায় যাচ্ছে? সত্যিই, এমন এক প্রযুক্তি যদি বিস্তৃতভাবে ব্যবহৃত হয়, কেউ আপনাকে না জানিয়েই কেবল Wi-Fi সিগন্যাল শুনে গোপনে ট্র্যাক করতে পারে – ভাবলেই আতঙ্ক লাগে। গবেষকরা অবশ্য দাবি করেছেন যে WhoFi সিস্টেমটি কোনো ব্যক্তির নাম-ঠিকানা বা সরাসরি পরিচয় সংরক্ষণ করে না, এটি কেবলমাত্র সংকেতের ভিত্তিতে এক ধরনের আইডি বা ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরি করে এবং সেই ডেটা দিয়ে কাজ করে। অর্থাৎ আপনার ছবি তুলছে না, সরাসরি নজরদারি ক্যামেরার মতো আপনার চেহারা শনাক্ত করছে না। তাই তা নাকি “privacy-preserving” বা গোপনীয়তা বান্ধব বিকল্প – এমনটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন উদ্ভাবকরা। কিন্তু অপব্যবহারের আশঙ্কা কি সত্যিই নেই? যে প্রযুক্তি দেয়ালের আড়াল থেকে, অন্ধকার ঘরে বসে আপনাকে দেখে ফেলতে পারে, তা যদি ভুল মানুষের হাতে যায়, তাহলে আপনার অজান্তেই কেউ কি রাউটার দিয়ে আপনার উপর নজর রাখতে পারে? সম্ভাবনাটা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই এই উদ্ভাবন যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি এর পরিণতি নিয়ে একটু শিহরণ মেশানো সতর্কতা থাকাও বোধহয় জরুরি।

শেষ পর্যন্ত এটা ভাবতেই অবাক লাগে – আমাদের বাড়ির সাধারণ Wi-Fi রাউটারটা পর্যন্ত আজকাল গুপ্তচর হিসেবে কাজ করতে পারে! প্রযুক্তির এই অগ্রগতি একদিকে বিস্ময় জাগায়, আবার অন্যদিকে হালকা ভয়েরও সঞ্চার করে। আপনি কি প্রস্তুত এমন এক ভবিষ্যতের জন্য, যেখানে অদৃশ্য তরঙ্গও চোখ কান খুলে বসে থাকবে? উত্তর যাই হোক, WhoFi আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে বিজ্ঞান বাস্তবিকই কোনও কল্পকাহিনীর চেয়ে কম অদ্ভুত নয়।

WhoFi be Like:-)

 

Exit mobile version